বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাজনীতিতে শেষ বলতে কিছু নেই। নরওয়ে আইভরিকোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলতে। ট্রাইব্রেকারে জার্মানিকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়ে। আশাহত জার্মান ভক্তরা। ট্রাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে মরক্কো জয়ী হয়ে বিশ্বকাপের পরবর্তী রাউন্ডে। প্রতিনিয়ত রোড এক্সিডেন্ট থেকে বাঁচার জন্য কুয়াকাটা পর্যন্ত ৬ লেনের রাস্তা ও রেললাইন চায় বরিশালবাসী। জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার স্থায়ী পরিষদ সদস্য ও নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান লায়ন সোবহান হাওলাদারকে স্থায়ী পরিষদের জন্মদিনের শুভেচ্ছা কেরাণীগঞ্জে ২২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে চীনের জায়ান্ট হান্ডা ইন্ডাস্ট্রিজ। ১৩০০০ জনের কর্মসংস্থান হবে। ভারতের ফেলে রাখা জমিতে চীনের হাই-টেক জোন। বেইজিংয়ে ঐতিহাসিক চুক্তি করলো ঢাকা। বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে করিডোরের প্রস্তাব দিয়েছে চীন ভাইয়া গ্রুপ (নাবিস্কো) কেরাণীগঞ্জের কাজীরগাঁওয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে চলছে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট রাইট এইড নামে অত্যাধুনিক হাসপাতাল।

রাজনীতিতে শেষ বলতে কিছু নেই।

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪৬ বার পড়া হয়েছে

মফিজের দোকানে চা পান করব বলে বসেছিলাম। পাশে চল্লিশোর্ধ্ব দুজন নির্মাণশ্রমিক চা পান করতে করতে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলেন। আমার চা আসতে একটু দেরি হওয়ায় অনিচ্ছাকৃতভাবেই তাঁদের কথোপকথন শুনছিলাম।
একজন অন্যজনকে বললেন—
—ভাই, হিরো আমলের কোনো খোঁজ নেই কেন? ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন তো সন্নিকটে!
অন্যজন বললেন—
—মনে আছে, হিরো গত জাতীয় নির্বাচনের আগে মার খেয়ে লাইমলাইটে আসার চেষ্টা করেছিল? উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পাওয়া। কারণ নির্বাচন তাকে করতেই হবে—সেটা স্থানীয় নির্বাচন হোক কিংবা জাতীয় নির্বাচন।
প্রথমজন বললেন—
—আরে ভাই, এবারের নির্বাচনে তো কোনো দল সরাসরি প্রতীকসহ মনোনয়ন দেবে না। তাই প্রার্থী থাকবে অনেকটা ‘গুপ্ত’। যে কেউ বলতে পারবে, ‘আমি অমুক দলের প্রার্থী।’ হিরোও হয়তো গুপ্ত প্রার্থী সেজে নির্বাচন করবে, আর তলে তলে দলীয় সমর্থন নেওয়ার চেষ্টা করবে।
কিছুক্ষণ নীরব থেকে তিনি আবার বললেন—
—যাদের নাম কোনোদিন কেউ শোনেনি, তারাও এখন দোয়া চাইতে বেরিয়েছে!
অন্যজন হেসে বললেন—
—এরা বিত্তশালী। দলীয় মনোনয়নের আগেই নিজেদের একজন ‘বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ’ হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা করছে। নিজেকে বড় কোনো দলের নেতা হিসেবে জাহির করতে পারলে দলীয় ছত্রছায়ায় আগামী পাঁচ বছর নির্বিঘ্নে ব্যবসা-বাণিজ্য করা যাবে। অথচ এলাকায় তাদের কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা আছে, সেটাই তো প্রশ্ন!
এরপর কথার মোড় ঘুরে গেল আরও গভীর রাজনৈতিক আলোচনায়।
একজন প্রশ্ন করলেন—
—বিগত ১৭ বছর যারা দলের হাল ধরে রেখেছিল, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের একত্র করে রেখেছিল, আজ তারাই কেন দলে কোণঠাসা?
অন্যজন খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে উত্তর দিলেন—
—এটাই হলো পলিটিক্স!
কথাটা শুনে আমি চুপচাপ তাঁদের দিকে তাকিয়ে রইলাম।
তিনি আবার বললেন—
—রাজনীতিতে সৎ, দক্ষ ও ত্যাগী মানুষের চেয়ে অবৈধ উপার্জনকারী, চাপাবাজ আর অতিরিক্ত ভোকাল লোকজনের গুরুত্ব যেন দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।
কিছুক্ষণ পর আরেকজন প্রশ্ন করলেন—
—এত বড় একটা দলের হঠাৎ পতনের পর সেই দলের নেতাকর্মীরা গেল কোথায়?
জবাব এলো—
—ওদের অনেকেই হয়তো সত্যিকারের দল করত না। ৫ আগস্টের পর বড় বড় নেতাদের অনেকে দেশ ছেড়েছে। দল নিষিদ্ধ থাকায় প্রকৃত কর্মীরা এখন অনেকটা নীরব—ভবিষ্যতে ভালো কিছু হবে, সেই আশায় অপেক্ষা করছে। আর সুযোগসন্ধানীদের কেউ কেউ এরই মধ্যে বিভিন্ন দলে যোগ দিচ্ছে।
প্রথমজন কিছুটা আক্ষেপের সুরে বললেন—
—তাহলে রাজনীতিতে আদর্শের কী হলো, ভাই?
অন্যজন খুব সহজভাবে বললেন—
—আরে ভাই, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই!
কথাটা শুনে আমি সত্যিই ‘থ’ হয়ে গেলাম।
মনে হলো, প্রান্তিক মানুষের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ কতটা গভীর! যাদের আমরা অনেক সময় রাজনীতি না-বোঝা মানুষ বলে মনে করি, তারা হয়তো রাজনীতির অনেক কঠিন সমীকরণ আমাদের চেয়েও সহজভাবে বুঝে ফেলেছে।
মফিজের দোকানের সেই সাধারণ চায়ের আড্ডা আমাকে একটি বড় প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিল—রাজনীতি কি সত্যিই আদর্শের জায়গা থেকে সরে গিয়ে এখন কেবল ক্ষমতা, প্রভাব ও সুবিধার হিসাব-নিকাশে পরিণত হচ্ছে?
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—জনগণ সবকিছুই দেখছে, শুনছে এবং হিসাব রাখছে।
বর্তমান রাজনীতিবিদদের সচেতন জনগণের ভোট পেতে হলে তাঁদের হতে হবে সৎ, দেশপ্রেমিক, জনবান্ধব, বিনয়ী ও ভালো মানুষ। শুধু অর্থ, প্রভাব, পরিচয় কিংবা বড় বড় কথায় মানুষের আস্থা অর্জন করা কঠিন।
শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবে সাধারণ মানুষ—মফিজের দোকানে বসা সেই নির্মাণশ্রমিক, রিকশাচালক, কৃষক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ খেটে খাওয়া মানুষগুলোই।
আমরা যারা নিজেদের শিক্ষিত ও রাজনীতি-বোদ্ধা মনে করি, তারা হয়তো অনেক হিসাব করি। কিন্তু ভোটের সময় সাধারণ মানুষ তার নিজের অভিজ্ঞতা, বিবেক ও বাস্তবতার আলোকে সিদ্ধান্ত নেয়।
আর সেই কারণেই হয়তো—
রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই।
শেষ কথা বলে জনগণ।

লায়ন সোবহান হাওলাদার
ভাইস চেয়ারম্যান
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews