কেন্দ্রীয় ফারিয়ার সভাপতি হাবিবুর রহমানকে নিয়ে তার স্ত্রীর আবেগঘন পোস্ট।

শারমীন আক্তার কাকলীঃ
আমি ব্যাক্তিগত ভাবে কখনোই ফার্মাসিটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশন (ফারিয়া) নিয়ে কোন কথা বা কোথাও কোন বিষয় নিয়ে কমেন্ট করিনা।আজকে মনে হলো আমার কিছু বলা উচিত।
বেশ কিছুদিন যাবত দেখছি কিছু ফেইক আইডি থেকে ফারিয়ার তৃনমুল ভোটে নির্বাচিত সভাপতি হাবিবুর রহমান (হাবিব)সাহেবকে নিয়ে বাজে বাজে লিখা লিখছে যার কোন বাস্তব ভিত্তি নেই।আমি মনে করছি তৃনমুল পর্যায়ে হাবিবুর রহমানের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কিছু কুচক্রী মহল, মহলও না ঠিক দুই, একজন ব্যাক্তি যাদের নিজস্ব আইডি দিয়ে না ফেইক আইডি দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ক্রমাগত উনার সম্মানহানি করার চেষ্টা করছে।কিন্তু উনারা হয়তো ভূলে গেছেন সম্মান দেওয়ার মালিক আল্লাহ্।যদি উনাদের কথার বাস্তবভিত্তি থাকতো তাহলে অবশ্যই নিজস্ব আইডি দিয়ে পোস্ট করতো।এটাতো স্পষ্ট বুঝা যায়।
আমি উনার স্ত্রী। আমি খুব কাছে থেকে দেখেছি ফারিয়াতে উনার উত্থান। উনি আপাদমস্তক একজন দক্ষ সংগঠক।এই সংগঠন করতে গিয়ে উনি জীবন থেকে অনেক পিছিয়ে আছেন যা নিয়ে আমি উনার প্রতি খুবই মনঃক্ষুণ্ণ। বিশেষ করে নিজের উপার্জন করা অর্থ ব্যায় করে, ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান সব ফেলে রেখে এত সময় ব্যায় করে উনি ছুটে চলেছেন রিপ্রেজেনটেটিভদের কল্যানে।আমি যখন উনাকে বলতাম বা এখনো বলি আপনার তো এই জায়গায় থাকার কথা না নিজের ব্যাবসা বাদ দিয়ে বাচ্চাদের বা আমার কথা না ভেবে সারাক্ষণ ফারিয়া নিয়ে পরে থাকেন এগুলো আমার আর ভাল লাগেনা।
উনি বলেন, দেখো আমিতো ঔষধ কোম্পানি তে চাকুরী করি ঔষধ কোম্পানির ছেলে মেয়েদের কোম্পানি তে চাকুরী করতে গিয়ে কত অসংগতি মোকাবেলা করতে হয়, কত অনিয়মের মধ্য দিয়ে যে যেথে হয় তা আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি।হাড়ভাংগা পরিশ্রম করেও কোম্পানির কাছে না পায় ন্যায্য পাওনা না পায় গ্রহনযোগ্য সম্মান।কত ছেলে মেয়ে আছে শুধু এই চাকুরী দিয়েই তার পরিবার চলে,এই চাকরীটাই তার একমাত্র অবলম্বন। শিক্ষিত মেধাবী ছেলে, মেয়ে সরকারী চাকুরীর বয়স শেষ,এমন কিছুও করতে পারবে না যেটা সমাজের চোখে দৃষ্টিকটু। তাই কোম্পানীর এত সব অনিয়ম মেনে বুকে পাথরচাপা কষ্ট নিয়ে চাকুরীটা করে।কাউকে না কাউকে তো এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে।প্রত্যেকটা মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের অধিকার আছে তাদের ন্যায্য সম্মান পাওয়ার। তা না হলে একটা উচ্চশিক্ষিত শ্রেনী পরে থাকবে অন্ধকারে।আমি একটু চেষ্টা করে দেখি তাদের কল্যানে কিছু করতে পারি কিনা।আল্লাহ্ তো সেই মেধাটা আমাকে দিয়েছে।
সেদিনের পর থেকে আমি ভেবেছি উনার উদ্দেশ্য মহৎ।যদি উনি এটা সঠিক ভাবে করে এতে করে যদি দশটা মানুষেরও উপকার হয় তাহলে তো ক্ষতি নেই।আমার একা একা সংসারটা পরিচালনা করতে একটু কষ্ট হয় তাও মেনে নিয়েছি অন্তত মানুষের উপকারে কিছু করছে এটা জেনে।এবং আজকে আমি কিছুটা হলেও গর্বিত যখন দেখি মানুষ হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, বা কল করে অথবা পোস্ট করে লিখে আপনার জন্য অনেক দোয়া আপনি এটা করে দিয়েছেন।কেউ কেউ আমাকে ব্যাক্তিগত ভাবে বলে, হাবিব ভাই আমার এই উপকারটা করে দিয়েছে, উনার জন্য আমি এই অসম্মানের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি,উনার মত মানুষ হয়না এগুলো শুনে স্ত্রী হিসাবে আমি সত্যিই আপ্লুত হই। ভাল লাগে এটা ভেবে যাক এত কিছু ব্যায় করে অন্তত কিছুতো ভাল করছে।এই যে মাত্র বললাম এই উপকার করার সংখ্যাটা অনেক বেশি।
যাহোক,ভাল কাজ করলে সমালোচনা থাকবেই।তবে সমালোচনাও গঠনমূলক হতে হয়।বাস্তবতার সাথে আদৌও কোন মিল নেই এটা সমালোচনা না এটা ইচ্ছাকৃত সম্মানী লোকের সম্মানহানি করার ব্যার্থ প্রয়াস।যুগ যুগ ধরে এগুলো হয়েই আসছে। ভাল কাজে বাঁধা আসবেই সেগুলোকে অতিক্রম করেই নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে।থেমে গেলে হেরে যেতে হবে।হারার জন্য আপনার জন্ম হয়নি।আমি আশা করবো সমস্ত সমালোচকদের মুখে ছাই দিয়ে আপনি আপনার তিন লক্ষ মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অবিচল থাকবেন এবং তাদের ন্যায়্য অধিকার আদায়ে সততার সাথে কাজ করে যাবেন।আপনার ভাল কাজই হবে সমালোচকদের যোগ্য জবাব। (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)