
সমাজ এগিয়ে যায় আত্মসমালোচনা আর সত্যের মুখোমুখি হওয়ার সাহসে। কিন্তু যখন সেই সাহস হারিয়ে যায়, তখন সত্যও অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। তখনই প্রবাদটি নির্মম বাস্তবতায় রূপ নেয়—অন্ধের দেশে আয়নার মূল্য নেই।
আজ আমাদের চারপাশে এমন এক বাস্তবতা দৃশ্যমান, যেখানে ভুল দেখিয়ে দেওয়া অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়, আর তোষামোদ হয়ে ওঠে সবচেয়ে নিরাপদ পথ। যে আয়না সমাজের মুখে ধরা উচিত ছিল, সেই আয়নাই ভেঙে ফেলা হয় বা আড়ালে সরিয়ে রাখা হয়। কারণ আয়না সত্য দেখায়—আর সত্য সব সময় স্বস্তিকর নয়।
প্রতিষ্ঠান হোক বা রাষ্ট্র, পরিবার হোক বা সমাজ—যেখানে সমালোচনার দরজা বন্ধ, সেখানে দুর্নীতি, অযোগ্যতা ও ব্যর্থতা অনিবার্যভাবে জায়গা করে নেয়। যোগ্য মানুষের কণ্ঠ সেখানে চাপা পড়ে যায়, আর অযোগ্যতার জয়গান উচ্চকিত হয়। এই অবস্থায় আয়না বহনকারী মানুষ—সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সৎ কর্মী—হয়ে ওঠেন অপ্রিয়।
সমস্যা আসলে আয়নার নয়, সমস্যা দৃষ্টিশক্তির। আমরা দেখতে চাই না, কারণ দেখা মানেই পরিবর্তনের দায় নেওয়া। অন্ধত্ব তাই শারীরিক নয়—এটা মানসিক, নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক। এই অন্ধত্বই সমাজকে স্থবির করে তোলে, ভবিষ্যৎকে করে তোলে অনিশ্চিত।
তবু ইতিহাস বলে, আয়নার প্রয়োজন একদিন ঠিকই অনুভূত হয়। অন্ধত্ব চিরস্থায়ী নয়, যদি চোখ খুলতে চাওয়ার ইচ্ছা থাকে। প্রশ্ন হলো—আমরা কি সেই ইচ্ছার দিকে এগোচ্ছি, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবেই আয়নাহীন অন্ধত্বকে বেছে নিচ্ছি?
কারণ মনে রাখতে হবে, আয়নার মূল্য না থাকলে সমাজ নিজের চেহারা কখনোই চিনতে পারবে না—আর নিজেকে না চিনলে কোনো জাতিই সামনে এগোতে পারে না।
ড. ইউনুস সাহেব এই দেড় বছরের শাসনামলে চেষ্টা করেছেন নানারকম ভয়ভীতি, আন্দোলন উপেক্ষা করে আত্মবিশ্বাসী জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে। তাহার নেতৃত্ব ছাড়া বিপ্লব পরবর্তী সরকার একমাসও টিকতো কী – না সন্দেহ।
রিজার্ভ ভালো অবস্থানে গিয়েছে, প্রতিরক্ষা বাহিনী সমরাস্ত্রে হয়েছে শক্তিশালী, মন্ত্রণালয় থেকে বিচারকদের জন্য আলাদা সচিবালয় হওয়ায় বিচারকরা অনেকটা চাপমুক্ত , রেমিটেন্স যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে আর যতো ব্যর্থতা ছিল তা পারিপার্শ্বিক কারণে। প্রশাসনের সহযোগিতা ও আন্তরিকতা ছাড়া একজন নোবেল জয়ীর পক্ষে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে আন্দোলন, সংগ্রাম ও আইনশৃঙ্খলা, আশানুরূপ কন্ট্রোলে রাখা সম্ভব হয় নাই। রাজনৈতিক সরকার ছাড়া রুট লেভেলের খবরা-খবর জানা যায় না ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক অপরাধ বন্ধ করতে পারেন নাই।
তিনি সংস্কার প্রস্তাবের মাধ্যমে জাতিকে আলোর পথে আনার জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটের আয়োজন করেছেন।
সরকার আশাকরে জনগণ “হ্যা” এর পক্ষে রায় দিয়ে আমাদের দেশে যে আয়নার মূল্য আছে তা প্রমাণ করবে কেননা জাতি যে অন্ধ না তা বিভিন্ন সময়ে প্রমাণ দিয়েছে।
লায়ন সোবহান হাওলাদার